গোলা বারুদের আতঙ্কে ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরলেন ভরতপুরের নাজিউর রহমান

4th March 2022 12:00 pm দেশ
গোলা বারুদের আতঙ্কে ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরলেন ভরতপুরের নাজিউর রহমান


যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের ভয়ঙ্কর স্মৃতি নিয়ে মুর্শিদাবাদের বাড়িতে ফিরলেন নাজিউর রহমান 

 

জৈদুল সেখ, ভরতপুর 

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইউক্রেনে পাড়ি দিয়েছিলেন নাজিউর রহমান। গত বুধবার মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার মাসুন্দি গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন ডাক্তারি পড়ুয়া নাজিউর রহমান। ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় স্বস্তিতে পরিবার ও এলাকার মানুষ। তবে ইউক্রেনের গোলাবারুদের আতঙ্ক এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে রহমানকে। সেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কাটানো প্রতিটি মুহুর্তের অভিজ্ঞতা জানাল নাজিউর।
    নাজিউর বলেন ''গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী গোটা ইউক্রেনে বেজে ওঠে সাইরেন। যুদ্ধ ঘোষণা হয়ে যায়। কিছু সময় পরেই শোনা যায়, মিসাইল পড়ার বিকট আওয়াজ। মৃত্যু হয় অনেকের আমরা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।'' 

ছবি - ভরতপুরে নিজের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে ইউক্রেন ফেরত ডাক্তারি পড়ুয়া নাজিউর রহমান 


    সেই সব মুহুর্ত, আতঙ্কে কাটানো প্রতিটা রাত মনে করলে এখনও বুক কেঁপে উঠে নাজিউরের। সেখানে  অনেক বন্ধু আটকে রয়েছে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেন এবং যুদ্ধ নয় শান্তির আর্জি জানিয়েছেন নাজিউর রহমান। 
       উল্লেখ্য গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইউক্রেনের লাভানো ফ্যাঙ্কিভেক্স  ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি ডাক্তারি পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন এবং ইভানুর ফ্রেঙ্কনুর শহরের হোস্টেল থেকে পড়াশোনা করতেন। তিনি জানান ২৬ ফেব্রুয়ারি সেখানে হামলা হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তার পর দিন রাত বাড়ি ফেরার আপপ্রাণ চেষ্টা করে রোমানিয়া বর্ডার হয়ে বিমানবন্দর এসে দেশে ফিরি।
চরম উৎকণ্ঠায় থাকতেন বাবা রেজাউর রহমান ও মা রাজিয়া খাতুন সহ পরিবারের সকল সদস্যরা। অবশেষে ভারতীয় দূতাবাসের তৎপরতায় দেশে ফিরলেন নাজিউর। আনন্দ ও স্বস্তির নিশ্বাস পড়েছে পরিবারের। 
      বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন বাঁধা সমস্যা কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ইউক্রেন ফেরত ডাক্তারী পড়ুয়া নাজিউর রহমান। তিনি বলেন, ''ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমাদের বলা হয় বর্ডারে পৌঁছানোর জন্য। সাড়ে চার হাজার টাকা করে দিয়ে বাসে আমি বর্ডারে এসে পৌঁছাযই। তবে ছিল না কোনো খাবারের ব্যবস্থা, পানীয় জল। মাইনাস ৪ ডিগ্রী তাপমাত্রায় দীর্ঘ ১২-১৪ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে রোমানিয়া বর্ডার পার করতে পারি। তারপর অবশেষে দেশে ফেরা।'' 
   তবে ইউক্রেন দেশের মানুষ সম্পর্কে নাজিউর রহমান বলেন ওরা খুব ভালো সন্মান দেয় এবং সাহায্য করে যদি ওদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়। তবে যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে এখনও ইউক্রেনে আটকে আছে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়া। ভারত সরকারের তৎপরতায় সেই পড়ুয়াদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা না হলে আরও অনেকের মৃত্যু হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন 

 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।