দৃষ্টিহীন দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ, মানবিকতার নজির সালার থানার

5th January 2022 4:12 pm জেলা
দৃষ্টিহীন দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ, মানবিকতার নজির সালার থানার


খোলা আকাশের নিচে থাকতেন অন্ধ দম্পতি! থাকার আশ্রয় করে দিয়ে মানবাধিকার নজির পুলিশের 

জৈদুল সেখ, সালার

নতুন বছরে মানবিকতার নজির গড়লেন পুলিশ প্রশাসন। স্বামী স্ত্রী দুজনেই অন্ধ! চোখে দেখতে পান না। ট্রেনে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনো রকমের দিন গুজরান। তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো বাসস্থান নেই। মুর্শিদাবাদের সালার থানার অন্তর্গত টিয়া গ্রামে রেল ইস্টেশনের পাশেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করেন অন্ধ দম্পতি কানাই হালদার এবং কণিকা হালদার। সেই অসহায় অন্ধ দম্পতির বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিলেন সালার থানার ওসি ইন্দ্রনীল মহান্তের নেতৃত্বে সালার থানার পুলিশ কর্মীবৃন্দ। 


    ট্রেনে এই অন্ধ দম্পতি গান শুনিয়ে ভিক্ষা করত। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। প্রশাসনের তৎপরতায় তাদের সমস্যা জানতে চাওয়া হয় এবং সালার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, ইন্দ্রনীল মহন্ত, পুরো বিষয়টি অবগত হয়ে এই দৃষ্টিহীন দম্পতির থাকার জন্য টিনের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন। সঙ্গে তাদের জামাকাপড়, একমাসের সবজি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্য করা হয়। পুলিশ যে শুধু চোর ডাকাত গুন্ডা দমন করে তা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবাও করেন তার দৃষ্টান্ত দেখাগেল মঙ্গলবার কান্দি মহকুমার অন্তর্গত সালার থানায়। যদিও এ বিষয় নিয়ে ওসি ইন্দ্রনীল মহান্ত মন্তব্য করতে চাননি তবে বলেন " আমি কেবল কর্তব্য পালন করেছি মাত্র, তাছাড়া এমন কাজের জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন। "
 পুলিশের এই মহতী কাজে খুশি সালারর বিডিও আশিষ মন্ডল। তিনি বলেন " পুলিশের পাশাপাশি তিনি মানবিকতার বড়ো পরিচয় দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন রাখব আপনারা এই সমস্ত অসহায় মানুষের খোঁজ দিন, আমরা যথাসাধ্য সাহায্য করব। "
  প্রসঙ্গত এই দম্পতি, কাটোয়া আজিমগঞ্জ লোকাল ট্রেনে গান করে ভিক্ষাবৃত্তি করে কষে জীবন কাটাত। খোলা আকাশই তাদের ঘর বলে মনে করত। সালার থানার পক্ষ থেকে তাদের নতুন ঘর, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দেন সালার থানার আধিকারিক ইন্দ্রনীল মহন্ত। এই শীতে মাথার নীচে ছাদ পেয়ে অনেকটাই আবেগপ্রবণ আনন্দিত হয়ে ওঠেন এই অন্ধ দম্পতি। তারা কখনও ভাবতে পারেননি যে নতুন বছরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে এমন একটা উপহার পাবে।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।