এবার ওমিক্রনের থাবা মুর্শিদাবাদে, আক্রান্ত ৭ বছরের এক শিশু! সাবধানবাণী মুখ্যমন্ত্রীর

15th December 2021 5:59 pm রাজ্য
এবার ওমিক্রনের থাবা মুর্শিদাবাদে, আক্রান্ত ৭ বছরের এক শিশু! সাবধানবাণী মুখ্যমন্ত্রীর


এবার ওমিক্রনের থাবা মুর্শিদাবাদে, আক্রান্ত ৭ বছরের এক শিশু! সাবধানবাণী মুখ্যমন্ত্রীর 

জৈদুল সেখ, বহরমপুর 


দেশের একাধিক রাজ্যে আগেই ছড়িয়েছে ওমিক্রন। এবার বাংলাতেও মিলল করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্টের হদিশ। ওমিক্রনে আক্রান্ত রাজ্যে প্রথম মুর্শিদাবাদের ৭ বছরের এক শিশু৷ বুধবার মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক সন্দীপ সান্যাল সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, " মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার বেনিয়াগ্রামের এক শিশু গত ১০ তারিখে আবু ধাবি থেকে বিমানে করে হায়দরাবাদে আসে ওই বালক। তার পর কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সড়ক পথে ফরাক্কা থানার বেনিয়াগ্রামে এসে উপস্থিত হয়। যদিও বর্তমানে আক্রান্ত বালক মালদহ জেলার কালিয়াচক থানা এলাকায় রয়েছে। তার খোঁজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।"  মুর্শিদাবাদের বেনিয়াগ্রাম এলাকাকে ইতিমধ্যেই কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
         উল্লেখ্য আগামী  রবিবার অর্থাৎ ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভার ভোট। তার আগে বুধবার ফুলবাগানে নির্বাচনী সভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই মুর্শিদাবাদের ওমিক্রন আক্রান্ত শিশুর প্রসঙ্গে আলোচনা করেন তিনি বলেন-“এবার ওমিক্রণ শুরু হয়েছে। আবু ধাবি থেকে একজন হায়দরাবাদ হয়ে কলকাতা এসেছে। একজন রোগী বিমানে থাকলে বাকি প্যাসেঞ্জাররা তাঁর সংস্পর্শে আসছে। তারপর তারা বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশছে। ওমিক্রমণ মারাত্মক কিছু না। কিন্তু এটা ছোঁয়াচে বেশি। খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমরা কোভিড মোকাবিলা করেছি। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু সবকিছু মোকাবিলা করেছি। শুধু এটাই বলব, আপনারা সতর্ক থাকুন।”
        প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ওমিক্রন আক্রান্ত ওই বালক এখন মুর্শিদাবাদে নেই। মালদহে কালিয়াচকের বালিয়াডাঙা গ্রামে মামারবাড়িতে রয়েছে সে। সেখানে তার খোঁজ করছে স্বাস্থ্য দফতর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালদহ জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শিশুটির খোঁজে কালিয়াচক এলাকায় গিয়েছে আধিকারিক দল। আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেলে প্রোটোকল অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনা আক্রান্ত অবস্থায় হায়দরাবাদ থেকে ১১ ডিসেম্বর কলকাতায় ফেরে শিশুটি। সেখান থেকে বাড়ির গাড়ি করে মালদহে যায় তারা। আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, একজন কোভিড পজিটিভ কী করে নিয়ম ভেঙে হায়দরাবাদ থেকে বিমানে ওঠে? 

 





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।