হস্টেল ঘরে উদ্ধার মেডিক্যাল ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ, মিলেছে সুইসাইড নোট, রহস্য!

10th November 2021 6:54 pm জেলা
হস্টেল ঘরে উদ্ধার মেডিক্যাল ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ, মিলেছে সুইসাইড নোট, রহস্য!


মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের কান্দির ডাক্তারি পড়ুয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন

জৈদুল সেখ, কান্দি

সম্পর্কের টানাপড়েন নাকি ডাক্তারি পড়ার চাপ থেকে মানসিক অবসাদ? কান্দী নিবাসী মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে নানান প্রশ্ন৷
     মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল থেকে উদ্ধার করা হল ডাক্তারি পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ। 
বন্ধু মহলে মেধাবী ছাত্রী বলেই সকলে চিনত মিনি ঘোষকে৷ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের (পিজিটি) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল মিনি৷ মঙ্গলবার রাতে হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ৷ তবে হস্টেলের অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে৷ খবর দেওয়া হয়েছে মিনির পরিবারকে৷ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের নাম মিনি ঘোষ (২৭)। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যদিও তাঁর ঘর থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে।
       মিনির বাড়ি মুর্শিদাবাদের কান্দির ঘোষবাটি গ্রামে। কৃষক পরিবারের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল মিনি ৷ স্বভাবতই মেয়ের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবার ৷ মিনির আত্মহত্যার খবরে হতবাক তাঁর বন্ধুরাও ৷ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিনি। সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেই সেমিনারের প্রস্তুতি হিসেবেই নানান কাজ করছিলেন। কিন্তু, রাত পর্যন্ত দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় সহপাঠীদের। তাই রাত দশটা থেকে মিনিকে ডাকাডাকি করেন তাঁরা। অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকির পরও মিনি দরজা না খোলায় তাঁদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। অবশেষে দরজা ভেঙে তাঁরা ঘরে ঢোকেন। তখনই ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থা উদ্ধার করা হয় মিনিকে। সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।মিনির ঘর থেকে মিলেছে একটি সুইসাইড নোট৷ 
      বুধবার মৃত মিনির ময়নাতদন্তের পরই দেহ তুলে দেওয়া হবে মিনির পরিবারকে৷ তবে কি কারণে ডাক্তারি পড়ুয়া আত্মহত্যা করলেন তা এখনও অধরা । মিনি ঘোষের পরিবারের সদস্যরা মিনি ঘোষের নিথর দেহ গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘোষবাটি গ্রামে।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।