কৃষক বাজার কৃষকদের রাত-ভর লম্বা লাইন, পুলিশের সঙ্গে বচসা ধ্বস্তাধ্বস্তি!

9th November 2021 11:24 pm জেলা
কৃষক বাজার কৃষকদের রাত-ভর লম্বা লাইন, পুলিশের সঙ্গে বচসা ধ্বস্তাধ্বস্তি!


কৃষক বাজার কৃষকদের রাত-ভর লম্বা লাইন, পুলিশের সঙ্গে বচসা ধ্বস্তাধ্বস্তি!

জৈদুল সেখ, বড়ঞা 

সরকারি ভাবে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন কৃষকেরা। এবছরও যাতে একই সমস্যার মুখে না পড়ত হয় তারজন্য রাত জেগে কৃষক বাজারে লম্বা লাইন কৃষকদের। এমনই ঘটল দেখা গেল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা কৃষক বাজারে। সোমবার সন্ধ্যে থেকে লম্বা লাইনের ভিড় কৃষকদের। 
     উল্লেখ্য খোলা বাজারে ধান বিক্রি করলে সঠিক অর্থ মেলে না। তাই কালোবাজারির হাত থেকে বাঁচতে সরকারি এই মাণ্ডিগুলিই একমাত্র ভরসা কৃষকদের। বেআইনি ভাবে ধান বিক্রি রুখতে আগাম এই পদক্ষেপ। তবে সরকারি ভাবে ধান বিক্রির জন্য কুপন সংগ্রহ করতে কৃষকদের লাইনে চরম বিশৃঙ্খলাও ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিও হয় কৃষকদের। 
     জানা যায়, মঙ্গলবার সাবলপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা কুপন সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন। আগে লাইন না দিলে কুপন মিলবে না, ফলে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়েই রাতভর অপেক্ষা করেছেন কৃষকরা। এই করোনা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ভয়ানক। সেই কারণে ভিড় রুখতে ঘটনাস্থানে বড়ঞা থানার পুলিশ এসে কৃষকদের সরিয়ে দিতে যায়। কিন্তু তাঁদের ক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। প্রথমে শুরু হয় বচসা। পরে ধস্তাধস্তি।
এরপর পুলিশ তাদের কৃষক বাজারের বাইরে বের করে দেয়। পরে কৃষক বাজারের বাইরে লাইন দিলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
     মঙ্গলবার সকালে কৃষক বাজারে কুপন বিলি প্রক্রিয়া শুরুর পরেও বিশাল লাইন থাকে। কৃষকরা বলছেন, রাতভর লাইন দিয়েও কুপন মিলবে কিনা সংশয় রয়েছে।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।