অসমাপ্ত প্রেম, ব্লাকমেলের হুমকি প্রেমিকের! আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী!

8th November 2021 8:52 pm জেলা
অসমাপ্ত প্রেম, ব্লাকমেলের হুমকি প্রেমিকের! আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী!


টাকা না দিলে গোপন ছবি ফাঁসের হুমকি প্রেমিকের, আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী 

জৈদুল সেখ, বড়ঞা 

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমিকার গোপন ছবি ফাঁসের হুমকি! টাকা চেয়ে লাগাতার ব্ল্যাকমেল প্রেমিক যুবকের। ভয় এবং মানসিক অবসাদে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী রেখা খাতুন নামে দশম শ্রেণীর ছাত্রী। মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার শ্রীহট্ট গ্রামের ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
      উল্লেখ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের পরিচয়, এরপর ঘনিষ্ঠতা, তারপর মনের সাথে মনের মিল, অবশেষে, প্রেম। কিন্তু তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার। অচেনা যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দিচ্ছিল পরিবারের লোকেরা। অন্যদিকে প্রেমিক চাপ দিচ্ছিল সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য। দুইয়ের মধ্যে চলছিল টানাপড়েন এবং মানুষিক অবসাদের পড়ে রবিবার রাতে আটটার সময় বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন দশম শ্রেণির ছাত্রী রেখা খাতুন ওরফে মুসকান। বয়স ১৫ বছর। সাটীতড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল রেখা খাতুন। 


       মৃত কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রেখা খাতুন ওরফে মুসকানের। তারপর তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে যায় সে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ছয় মাস আগে এই সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। তবে এখানেই শেষ নয় গল্প ঘুরে অন্যদিকে মোড় নেয়! বারবার ফোন আসে ওই তরুণীর কাছে। কিছু গোপন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হত তার কাছে। টাকা না দিলে অশ্লীল ছবিগুলি পরিবারের প্রত্যেকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ। সেই ভয়েই রবিবার রাতে নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে রেখা।            
       রেখার বাবা আলিজান বলেন " আমার অল্প বয়সের মেয়েকে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়ে টাকার লোভে ব্লাকমেল করেছে, আমার জীবন থেকে মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে যে শয়তান, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি। যাতে করে এভাবে আর কোনো মেয়েকে বাবার জীবন থেকে চলে যেতে না হয় "
       বড়ঞা থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বড়ঞা থানার পুলিশ। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে ক্রাইম ব্যাঞ্চে যোগাযোগ করা হচ্ছে   এর সঙ্গে জড়িত দোষিদের তল্লাসি চলছে। 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।