জনসচেতনতা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে ইতিহাসের বুকে জ্বলল আলো

6th November 2021 5:57 pm জেলা
জনসচেতনতা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে ইতিহাসের বুকে জ্বলল আলো


জনসচেতনতা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে ইতিহাসের বুকে জ্বলল আলো 

জৈদুল সেখ, লালবাগ 

দীপাবলিতে যখন চারিদিক আলোয় আলোকিত তখন কিছু ধ্বংসপ্রায় অবহেলিত ইতিহাসের বুকে মোমের আলো জ্বেলে দেওয়া হলো মুর্শিদাবাদ জেলা ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে। বিগত চারবছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে বাংলার বুকে এই অভিনব কর্মসূচী চলে আসছে। উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও সেই সঙ্গে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে মুর্শিদাবাদ জেলা তথা বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য গুলি যথোচিত ভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করে ইতিহাসের হাত ধরে পর্যটন বিকশিত হয়। 
            মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা জমিদার বাড়ি, লালবাগের ফৌতি মসজিদ, কাশিমবাজার বড় রাজবাড়ি, কর্ণসুবর্ণের নির্জন প্রত্নক্ষেত্র ও লালগোলার রাজবাড়ির গেস্ট হাউস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও পুরাসম্পদের ওপর এই মোমের আলো জ্বেলে দেওয়া হলো মুর্শিদাবাদ জেলা ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র-র উদ্যোগে। এক সময় এই সকল ঐতিহাসিক স্থাপত্য গুলোতে উৎসবে থাকত আলোর রোশনাই । বছরভর থাকত নানা ব্যস্ততা। মানুষের উপস্থিতি ছিল অহরহ। কিন্তু এখন সবটাই ধূসর ইতিহাস। বেশিরভাগই অবহেলায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাস হারিয়ে গেছে অথবা ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া।   
     তাই মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে মানুষের কাছে বিশেষ করে পর্যটন ক্ষেত্রে গুরুত্ব  বাড়িয়ে দিতে এই অভিনব উদ্যোগ। এ প্রসঙ্গে আয়োজক সংস্থার সদস্য সোমনাথ ভট্টাচার্য জানান- "জনমানসে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই গত চরবছর ধরে এই কর্মশাসূচী নিচ্ছি। সেই সঙ্গে জেলার অবহেলিত স্থাপত্য ও পুরাসম্পদ গুলিকে সঠিক ভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালি করা যায় তার জন্য প্রশাসনিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা "। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই সাধারণ বহু উৎসাহি মানুষ আমাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে যোগাযোগ করেছেন এবং এর যথোচিত বাস্তবায়নে প্রশাসনের সঙ্গেও এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্টই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
       তবে ঐতিহ্য সংস্কার ও সংরক্ষণের হাত ধরে পর্যটন কে প্রসারের লক্ষ্যে দীপাবলিকে কেন্দ্র করে ভিন্ন স্বাদের এই ব্যাতিক্রমি উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন কতটা প্রভাবিত হবে তা অবশ্য সময় বলবে।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।