মর্মান্তিক! কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরার পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যু একই পরিবারের ৫ জনের, গুরুতর আহত ৬

5th November 2021 2:23 pm জেলা
মর্মান্তিক! কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরার পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যু একই পরিবারের ৫ জনের, গুরুতর আহত ৬


মর্মান্তিক! কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরার পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যু একই পরিবারের ৫ জনের, গুরুতর আহত ৬

চেতনা, কান্দি 

ভিন রাজ্য থেকে আগত পরিবারের সদস্যকে সানন্দে বাড়িতে নিয়ে আসতে পরিবারের সকলে মিলে কলকাতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বদলে গেল বিষাদে। দীপাবলির পরদিনই ভোরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের পাঁচজনের। যার মধ্যে দুই মহিলা সহ ৩ বছরের ও ৬ বছরের দুই বালক রয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৬ জন। শুক্রবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের কামনাড়া এলাকায়।

কলকাতা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুর্শিদাবাদে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের পাঁচ জনের। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বর্ধমান-মুর্শিদাবাদ বাদশাহি রোডের দেওয়ানদিঘি এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাড়ির চালক-সহ আরও ছ’জন।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সায়ন সেখ (৩), সোনালী খাতুন (১৯), সায়নুর খাতুন (১৭), রাশেদ শেখ (৬০) এবং আরিয়ান সেখ (৬)। মৃতেরা সকলেই মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার বিপ্রশেখর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনার খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই এলাকায়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রাশেদ শেখ মুম্বইয়ে থাকেন। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে নামেন। তাঁকে আনতে পরিবারের সকলে গিয়েছিলেন কলকাতায়। সেখান থেকে ফেরার পথে একটি লরি ধাক্কা মারে তাঁদের গাড়িতে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। চালক-সহ ১২ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে যায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। সেখানেই পাঁচ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। বাকিরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সকালে খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেছেন।

তবে গাড়িটি কীভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, হঠাৎ করে কেন ডাম্পারে ধাক্কা মারল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান পুলিশ। পাঁচজনের দেহ ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বর্ধমান পুলিশের তরফেই তাঁদের আত্মীয়দের দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।