মর্মান্তিক! কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরার পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যু একই পরিবারের ৫ জনের, গুরুতর আহত ৬
চেতনা, কান্দি
ভিন রাজ্য থেকে আগত পরিবারের সদস্যকে সানন্দে বাড়িতে নিয়ে আসতে পরিবারের সকলে মিলে কলকাতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বদলে গেল বিষাদে। দীপাবলির পরদিনই ভোরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের পাঁচজনের। যার মধ্যে দুই মহিলা সহ ৩ বছরের ও ৬ বছরের দুই বালক রয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৬ জন। শুক্রবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের কামনাড়া এলাকায়।
কলকাতা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুর্শিদাবাদে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের পাঁচ জনের। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বর্ধমান-মুর্শিদাবাদ বাদশাহি রোডের দেওয়ানদিঘি এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাড়ির চালক-সহ আরও ছ’জন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সায়ন সেখ (৩), সোনালী খাতুন (১৯), সায়নুর খাতুন (১৭), রাশেদ শেখ (৬০) এবং আরিয়ান সেখ (৬)। মৃতেরা সকলেই মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার বিপ্রশেখর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনার খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রাশেদ শেখ মুম্বইয়ে থাকেন। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে নামেন। তাঁকে আনতে পরিবারের সকলে গিয়েছিলেন কলকাতায়। সেখান থেকে ফেরার পথে একটি লরি ধাক্কা মারে তাঁদের গাড়িতে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। চালক-সহ ১২ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে যায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। সেখানেই পাঁচ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। বাকিরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সকালে খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেছেন।
তবে গাড়িটি কীভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, হঠাৎ করে কেন ডাম্পারে ধাক্কা মারল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান পুলিশ। পাঁচজনের দেহ ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বর্ধমান পুলিশের তরফেই তাঁদের আত্মীয়দের দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।