পুজোয় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে একাত্মা

11th October 2021 11:36 pm রাজ্য
পুজোয় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে একাত্মা


পুজোয় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে একাত্মা 

মুস্তাকিম সেখ, বহরমপুর 

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী, গরিব নির্বিশেষে উৎসব সবার, এই চিন্তা ভাবনা কে মাথায় রেখে  বহরমপুর একাত্মা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের অর্থাৎ কর্ণসুবর্ণ, পলসন্ডা এবং ধূপ ঘাটির প্রায় ৫০ জন উপস্থিতে ছোটো ছোটো  অসহায় দুঃস্থ  ছেলে মেয়ে, যারা পুজোর  পোশাক এবং পুজোর চার টে দিন থেকে বঞ্চিত তাদের নিয়ে একটা দিন পুজোর মরশুমে শারদীয়ার আনন্দ ভাগ করে নিলো একাত্মা পরিবারের সদস্যরা। 

বহরমপুর একাত্মা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে এই দিন এই সমস্ত  দুঃস্থ বাচ্চাদের দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে নতুন পোশাক বিতরণ এবং সোসাইটির অতিথি বৃন্দ তন্ময় ঘোষের ঐকান্তিক ইচ্ছায় খাবার বিতরণ করা হলো। সঙ্গে ছিল শিশু শিক্ষা এবং শিশু স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনা।

উক্ত কর্মসূচিতে সিনির পক্ষ থেকে অপুষ্টিতে ভোগা মা ও শিশুদের জন্য কিছু সাপলিমেন্ট জাতীয় পুষ্টি কর খাবার ও বিতরণ করা হয়।

বহরমপুর একাত্মা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই মিলন উৎসবের উদ্যোগের সাক্ষী হয়ে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত সম্মানীয় ব্যাক্তিত্ব খাগড়া গুরুদাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রী ডক্টর সন্দীপ দাশগুপ্ত মহাশয় , সিনির আসিস্টেন্ট ডিরেক্টর শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী মহাশয় এবং জেলার হেলথ সেকশন এর শিশু সেলের,  ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর শ্রী রূপেশ কুমার দাস মহাশয়। সোসাইটির এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে শিশু শিক্ষা এবং শিশু স্বাস্থ্য সচেতনতা আলোচনা এবং ছোটো ছোটো বাচ্চাদের আনন্দ ছিলো চোখে পড়ার মতন। 

তাদের এই কর্ম সূচি আগামী দিনে  জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক এই সমস্ত বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটাতে সদা সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত একাত্মা সোসাইটির সদস্যরা বলে জানিয়েছেন।  





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।