টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ উঠল আশা কর্মীদের বিরুদ্ধে

6th September 2021 9:22 pm জেলা
টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ উঠল আশা কর্মীদের বিরুদ্ধে


টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ উঠল আশা কর্মীদের বিরুদ্ধে

জৈদুল সেখ, ভরতপুর 

 

সরকারি নির্দেশিকা না মেনে বেআইনিভাবে ষাট  বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিকদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হল ষাট বছরের নিচের বয়স্ক গ্রামবাসীদের।  এমনই অভিযোগ উঠলো আশাকর্মীদের বিরুদ্ধে।  
সোমবার ভরতপুর থানার অন্তর্গত আলুগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েত ভবনে দুইশো জন বয়স্ক গ্রামবাসীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল, দুইশোটি ভ্যাকসিনের কুপন ইস্যু করাও হয়েছিল কিন্তু বিলি করা হয়েছে দেড়শ কুপন আর পঞ্চাশটি কুপন বিক্রি করা হয়েছে মোটা টাকার বিনিময় এমনই অভিযোগের ঘটনায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানা এলাকায়। 
        উল্লেখ্য ভ্যাকসিন নিয়ে বিভিন্ন যায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছিল, ফলে মুর্শিদাবাদ জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক অপ্রতিম ঘোষ দুদিন আগে  সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন রাজ্য সরকারের ও জেলাশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে কোন হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে না। তিনি জানান, এবার থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার সেন্টার হবে শুধুমাত্র এলাকার হাইস্কুলে। ভোটার লিষ্ট অনুযায়ী আশাকর্মী বা স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিনের কুপন দিয়ে আসবেন। সেই কুপনে উল্লেখ করা থাকবে নির্দিষ্ট দিন বা সময় ও কোন স্থানীয় হাইস্কুলে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে । যতগুলি কুপন দেওয়া হবে ঠিক ততগুলিই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে৷ তিনি আরো জানান, ভ্যাকসিন দেওয়ার ৪৮ ঘন্টা আগে আশাকর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিনের কুপন দিয়ে আসবেন । এক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এমন ঘোষণায় কার্যত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন জনসাধারণ। কিন্তু আশাকর্মীদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষকে হতাশ করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। 
            যদিও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন ভরতপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অবিনাশ কুমার। এছাড়াও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তব্যে অবহেলা ও এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্নীতির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শাসক দলের সদস্য বাবর আলী পুরো ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের সাজার দাবি জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা ও এলাকার জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা অপরদিকে এলাকার আশা কর্মীদের অপদার্থতা জন্য এলাকার গ্রামবাসীরা দাবি জানিয়েছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রশাসনকেই। সব মিলিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা এর মধ্য দিয়ে সোমবার করোনা ভ্যাকসিন প্রদান শিবির অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার আলো গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনে।
 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।