কান্দিতে পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলেকে খুন! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা!

12th August 2021 11:41 pm জেলা
কান্দিতে পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলেকে খুন! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা!


কান্দিতে পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলেকে খুন! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা!

চেতনা,  কান্দি 

কান্দিতে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলেকে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদের কান্দিতে। মৃত যুবকের নাম রাজিবুর রহমান। বয়স ৩২ বছর। কুমারষন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ওই যুবকের মা পঞ্চায়েতের প্রধান তানজিলা বিবি, পিতা গিয়াসুদ্দিন সেখ। 
     পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে প্রতিদিনই রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি থেকে বের হতেন রাজিবুর। রাতে পোলট্রি ফার্ম দেখাশোনা করে সকালে ফিরত বাড়ি। বুধবার রাতেও তার অন্যথা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফেরেনি ওই যুবক। এলাকা থেকে উদ্ধার হয় তার ক্ষতবিক্ষত দেহ। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, প্রশাসন সূত্রে খবর মৃত যুবক রাজিবুলের শরীরে জড়ানো ছিল ইলেকট্রনিক তার, সেই সূত্রে ইকেট্রিক শর্টে মৃত্যু বলে অনুমান করা হলেও পরিবার সূত্রে খুনের অভিযোগ তুলেছেন। পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দেহটি উদ্ধার করে কান্দি হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় সেই কারণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
        প্রসঙ্গত বুধবার রাতে ফার্মে যাননি রাজিবুর। যুবকের বাড়ির লোকেদের দাবি, তাঁদের ছেলেকে সারারাত ধরে অত্যাচার করে খুন করে ভোরে রাস্তার ফেলে দেয় আততায়ীরা। ইতিমধ্যেই পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
উল্লেখ্য একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজিবুলের নেতৃত্বে কুমারষন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচুর ভোটে লিড পায় তৃণমূল। সেই কারণে অনেকেই ওই যুবকের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। প্রাথমিকভাবে অনুমান, সেই ক্ষোভের কারণেই পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। 
      জানা গিয়েছে, রাজিবুল খুবই কর্মঠ ছিলেন। ছোট থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য সবসময় কাজ করত। বর্তমানে পঞ্চায়েত অফিসের পাশে একটি জমিতে পোলট্রি ফার্ম করে মুরগির ব্যবসা করত। তা দিয়েই সংসার চালাত। এবিষয়ে কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা কান্দি ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাপি সরকার জানিয়েছেন, “এলাকার উন্নয়নের জন্য খুবই তৎপর ছিল পঞ্চায়েত প্রধান তানজিলা বিবির ছেলে রাজিবুল। এমনটা ঘটবে ভাবতে পারিনি। অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।”





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।