উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথমস্থান কান্দির রুমানা সুলতানা, হতে চায় চিকিৎসক

22nd July 2021 8:24 pm রাজ্য
উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথমস্থান কান্দির রুমানা সুলতানা, হতে চায় চিকিৎসক


উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথমস্থান কান্দির রুমানা সুলতানা, হতে চায় চিকিৎসক

জৈদুল সেখ, সিটন সেখ, কান্দি 

 

প্রকাশিত হল চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। এ বছরের বছরের উচ্চ মাধ্যমিকে শীর্ষ স্থানে মুর্শিদাবাদের কন্যা। ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করল কান্দির বাসিন্দা রুমানা সুলতানা। কান্দি রাজা মনিন্দ্রচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুমানা সুলতানা কান্দি থানার শিবরামবাটি এলাকার বাসিন্দা রুমানা সুলতানার সাফল্যে খুশি তাঁর পরিবারসহ মুর্শিদাবাদবাসী। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করে রুমানা বড়ো হয়ে চিকিৎসক হতে চায় বলে জানিয়েছে। 
     উল্লেখ্য কান্দির রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুমানা। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রুমানা পঞ্চম স্থান দখল করেছিলে। দু’বছর আগে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় ৬৮৭ নম্বর পেয়েছিল রুমানা। তার পর ওই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল বিজ্ঞান বিভাগে। সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তেই বেশি ভালবাসে। রুমানার বাবা রবিউল আলম ভরতপুর গয়েসাবাদ অচলা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক। মা সুলতানা পারভিন শিক্ষিকা। করোনা পর্বের মধ্যেই মেয়ের এই সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার। রুমানার সাফল্যে উৎফুল্ল তাঁর শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং প্রতিবেশীরা।
   প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস বলেন,'এবারেও কোনও মেধা তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। খুবই অল্প সংখ্যক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।' উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এককভাবে প্রথম হয়েছেন মুর্শিদাবাদের এক তরুণী। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৯ অর্থাৎ কান্দির রুমানা সুলতানা। 


এ প্রসঙ্গে রুমানা জানিয়েছে ‘‘ প্রথম হিসাবে আমার নাম তো বলা হয়নি। তবে যে ফল প্রকাশ হয়েছে, তাতে আমি খুশি। আসলে মাধ্যমিক এবং একাদশ শ্রেণির ফল ভাল ছিল। তাই এমন ফল হয়েছে।’’ রুমানা আরও বলছেন, ‘‘উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আমি পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই।’’ এছাড়াও দুবার ভালো ফলের অবদানে সুলতানা তার বাবা মা এবং শিক্ষকের অবদানের কথা বলেছে। 
      রুমানা সুলতানার প্রথম হওয়ার খবর হতেই তার বাড়িতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে শিক্ষক এবং সমাজসেবকদের ভিড় উপচে পড়ে রুমানাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার জন্য। এদিন রুমানাকে সম্বর্ধনা দিতে স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলেন কান্দির মহকুমা শাসক নবীন কুমার চন্দ্র, ডি আই অমর কুমার সিল, ডি ই ও অন্যন্যা ঘোষ, কান্দি এস আই গোবিন্দ রায়। বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরযুক্ত শংসাপত্র তুলে দিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী রুমানা সুলতানার হাতে।
 কান্দি এস আই গোবিন্দ রায় বলেন " রুমানা সুলতানা কেবলমাত্র মুর্শিদাবাদ নয় পশ্চিমবঙ্গের গর্ব, আমরা চাই সে আরো বড়ো হোক আরো এগিয়ে যাক "। জেলার মেয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় ফেসবুকে পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।