দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, পরিবার চালাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে অসহায় ইয়ামিন, সাহায্যের আবেদন

27th June 2021 10:15 pm জেলা
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, পরিবার চালাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে অসহায় ইয়ামিন, সাহায্যের আবেদন


দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, পরিবার চালাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে অসহায় ইয়ামিন, সাহায্যের আবেদন 

জৈদুল সেখ, বহরমপুর

শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণে চোখের জলে দিন কাটছে অসুস্থ অসহায় এক পরিবারের। ছয় মেয়ে এক ছেলে, রিক্সা চালিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। আয় বলতে কেবলই ইয়ামিন ওরফে সেন্টুর রিক্সা বর্তমানে টোটো গাড়ি! গত বছর লকডাইনে বন্ধ ছিল কাজ ফলে সংসারে পড়তে থাকে আর্থিক অভাবের টান, সংসার চালাতে করতে হয় ধার-দেনা! শুরু হয় মানুষিক চাপ! আর তা থেকেই হটাৎ অসুস্থ, শরীর অসাড় হয়ে যায়! ডাক্তার জানায় প্যারালাইসিস!
সেই যে প্রায় এক বছর আগে অসুস্থ হয়ে বিছানা গত! এখানো পর্যন্ত নিজে থেকে কাজ তো দূরের কথা হাঁটাচলাও করতে পারেনা। স্ত্রী শুকরুন্নেশা ধরে ধরে সাহায্যে স্নান খাওয়া দাওয়া হসপিটাল সবকিছুই। দীর্ঘ এক বছর ধরে সংসারের কোনো আয় না থাকায়? অসহায় পরিবারকে ডাক্তার দেখার জন্য কাতারে সাহায্যের আবেদন ...!  কিন্তু এভাবে কতোদিন চলবে ... চোখ থেকে অশ্রু ঝরে ইয়ামিনের, কথা বন্ধ করে সুদূরে দৃষ্টি ... মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত গ্লানি দুঃখ গ্রাস করছে। 
এমনই ঘটনা ঘটেছে অসহায়! নিরুপায় পরিবার। মুর্শিদাবাদের জেলার বহরমপুর ব্লকের অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণের রাঙামাটি চাঁদপাড়া অঞ্চলে ডাবকাই গ্রামে। নাম ইয়ামিন সেখ পরিবারের ছয় মেয়ের মধ্যে খুব কষ্টে পাঁচজনের বিয়ে হয়েছে, একটি মেয়ের বিয়ে এখনো বাকি, বর্তমানে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এক ছেলে রয়েছে কিন্তু সেও শারীরিক ও মানুষিক ভাবে  অক্ষম।


 সপ্তাহে একবার বহরমপুর মেডিক্যাল হসপিটাল চিকিৎসার জন্য আসবে এখন সে টাকাও নেই! সম্বল বলতে কিছুটা জমি ছিল কিন্তু ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে তাও বিক্রি করে দিয়ে এখন নিঃস্ব, অসহায়, নিরুপায়! গ্রামের কিছু মানুষ দিন কয়েক সাহায্য করলেও বর্তমানে ছেলে মেয়ে স্ত্রী কে নিয়ে সংসার চলে না! টাকার অভাবে বন্ধ ওষুধ! গ্রামের প্রধান মেম্বারেরা সেভাবে সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে না দেওয়ায়, হতাশায়, দুশ্চিন্তায় ভুগছে শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের ডাবকাই গ্রামের ইয়ামিন ওরফে টোটো চালক সেন্টুর পরিবার। 
 এব্যাপারে উপপ্রধান ইসমাইল সেখ বলেন " সত্যি ইয়ামিনের পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ, পঞ্চায়েত থেকেও আমরা সেভাবে সাহায্য করতে পারিনি। তবে বিডিও সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু সাহায্যের জন্য বলব "
 যদিও অসুস্থ ইয়ামিনের স্ত্রী শুকরুন্নেশা বিবি বলেন " মেম্বার প্রধান কেউ কোনো দিন খোঁজ নেয় না বাবা! খুব কষ্টেই দিন যাচ্ছে। যা ছিল সব শেষ! যদি সাহায্য করে খুব উপকার হবে। "
 
ইয়ামিনের কাতরে আবেদন আপনারা আমাকে সাহায্য করুন
" আর পারছি না! আমার স্ত্রী, ছেলে -মেয়ে কে নিয়ে কোথায় যাব?"
 প্রশ্ন অনেক?
 উত্তর একটাই- সাহায্য করলে পরিবারের মুখে ফুটবে হাসি। ফিরে পাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন! 
 
 এখন দেখার বিষয় দুয়ারে সরকার থেকে সমাজ সচেতন মানুষ ইয়ামিন ওরফে সেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নিয়ে কবির ভাষায় বলতে শোনা যাবে নিশ্চয়ই
  "মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াও"
 
 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।