অক্সিজেন নিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির পাশে দাঁড়ালো বড়ুঞার রেড ভলেন্টিয়ার্স

31st May 2021 5:50 pm জেলা
অক্সিজেন নিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির পাশে দাঁড়ালো বড়ুঞার রেড ভলেন্টিয়ার্স


অক্সিজেন নিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির পাশে দাঁড়ালো বড়ুঞার রেড ভলেন্টিয়ার্স 

জৈদুল সেখ, বড়ুঞা

 

করোনা মহামারীতে বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন। নিত্যদিনের জীবন চর্চা থেকে অভ্যাস। কাজ হারিয়েছে মানুষ! পড়েছে খাদ্যের অভাব! কিন্তু এই অতি মহামারীতে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়েছে অক্সিজেন। ধনী থেকে দারিদ্র্য অনেকেই অক্সিজেনের অভাবে ছুটছে এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। কেউ পেয়েছে কেউ বা না পেয়ে স্বাস কষ্টে মারা গেছে! হসপিটালে পড়েছে অক্সিজেনের আকাল। এই মহামারীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এমনকি রাজনীতি ভুলে মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী। এমনই এক জ্বলন্ত উদাহরণ মুর্শিদাবাদের কান্দি মহাকুমার বড়ুঞার রেড ভলেন্টিয়ার্স। 

গতকাল সন্ধ্যা সাতটার সময় রেড ভলেন্টিয়ার্সের সদস্য আবু সালেকে মোবাইলে ফোন করে জিয়াউল হক বলেন যে

" আমার পিতার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, আপনাদের রেড ভলেন্টিয়ার্স থেকে এক‌টি অক্সিজেন সিলান্ডারের ব্যবস্থা করে দিলে বাবাকে হয়তো বাঁচানো যাবে! "

কথাটা শোনার পরেই রেড ভলেন্টিয়ার্সের সদস্য আবু সালেক, বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী, মাইনুল হাসান, মিল্টন, সুফলরা প্রস্তুত হয়। উল্লেখ্য সেই সময় চলছিল ঝড়-বৃষ্টি সেই ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বড়ুঞার গোপীপুর গ্ৰামের কোভিড পজিটিভ রুগীর বাড়িতে অক্সিজেন চালিয়ে দেন।  তার অক্সিজেন মাত্রা ছিল ৭৬ এর নীচে। 
সেই অসুস্থ রুগী আর কেউ নন, বড়ঞা এক নম্বর  অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি এবং কলকাতা কর্পোরেশন এর সরকারি কর্মচারী সংগঠনের বামফ্রন্টের বিরোধী দল নেতা সাধন মোল্লা। 

 বড়ুঞার রেড ভলেন্টিয়ার্সের সম্পাদক আবু সালেক জানান

" লকডাউন থেকেই খাদ্য থেকে অক্সিজেন মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় আমরা পাশে থেকেছি। তবে আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগছে যে আমরা বিরোধী নেতাকে সাহায্য করতে পেরেছি "


তার সঙ্গে সঙ্গে আরও জানান বড়ঞা ব্লকের সকল মানুষের কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা সাহায্য হাত বাড়িয়ে দিন। এখনও অনেক মেডিক্যাল সরঞ্জাম কিনার আছে সেগুলো কিনতে পারলে বড়ঞা রেড ভলেন্টিয়ার্সের কাজ আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে আবেদন জানিয়েছেন। 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।