মাস্কহীন! বেলা বাড়তেই তৎপর প্রশাসন, লকডাউন সফল কান্দিতে

16th May 2021 4:32 pm জেলা
মাস্কহীন! বেলা বাড়তেই তৎপর প্রশাসন, লকডাউন সফল কান্দিতে


মাস্কহীন! বেলা বাড়তেই তৎপর প্রশাসন, লকডাউন সফল কান্দিতে

জৈদুল সেখ, কান্দি

রবিবার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে লকডাউন। চলবে ৩০ মে সন্ধ্যা ৬ টা অর্থাৎ পনেরো দিন পর্যন্ত। বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জরুরী পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস। গতকাল নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় 
 তবে সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে খুচরো দোকান, বাজার ঘাট, মুদিখানার মতো কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান।  কিন্তু সকাল আটটার সময় কান্দী, পুরন্দপুর, গোকর্ণ, মহলন্দী, জীবন্তি সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখাগেল অসচেতনতার চিত্র। বাজারে মানুষের হুড়োহুড়ি, খরিদ্দার থেকে দোকানদার অনেকেরই মুখে নেই মাস্ক, ক্যামেরা দেখতেই কেউ কেউ যদিও মুখে মাস্ক পড়ে নিচ্ছেন।


তবে কান্দি প্রশাসনের মাইকিং এবং কড়াকড়ি নাকা চেকিং করার পরেই, বেলা দশটার পর কান্দির প্রায় সমস্ত এলাকা ছাড়াও ভরতপুর, খড়গ্রাম রাজ্য সড়কের যান চলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পুর্ণ লকডাউনের চিত্র দেখা যায়। এ ব্যাপারে কান্দির প্রশাসনিক উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
 এলাকায় বিশিষ্ট্য ব্যক্তি তথা ব্যবসায়ী নিখিল কুমার সরকার বলেন

" সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হলে প্রশাসনিক তৎপরতা খুবি প্রয়োজন, মাইকিং করে এলাকায় এলাকায় প্রচার করার ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে কান্দি থানার প্রশাসনকে  সাধুবাদ জানায়, তবে কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এই মহামারী করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজেকেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে, মাস্ক অবশ্যই পড়া উচিৎ। "

উল্লেখ্য, রবিবার থেকে আগামী ৩০ মে ১৫ দিনের জন্য জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলি ছাড়া সকল সরকারি, বেসরকারি দফতর বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে নবান্ন। শুক্রবারের স্বাস্থ্য ভবনের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী,রাজ্যে একদিনে মৃত ১৩৬ জন এবং সংক্রমণ ২০ হাজার ৮৪৬ জন। এই পরিস্থিতিতে আরও কড়াকড়ি চালু করে রাজ্য সরকার। 

 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।