পশ্চিমবঙ্গের করোনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি কান্দির সভায় বললেন ফিরহাদ হাকিম

15th April 2021 6:45 pm দেশ
পশ্চিমবঙ্গের করোনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি কান্দির সভায় বললেন ফিরহাদ হাকিম


পশ্চিমবঙ্গের করোনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি কান্দির সভায় বললেন ফিরহাদ হাকিম 

জৈদুল সেখ, কান্দী

মুর্শিদাবাদের ৬৮ কান্দী বিধানসভার সভা পাল্টা সভার লড়াই গত বুধবার জোট প্রার্থীর সমর্থনে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল কান্দীর মহলন্দী বাজারডাঙ্গা ময়দানে। একদিন পরেই  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অপূর্ব সরকারের সমর্থনে কলকাতার মেয়রের একই মাঠে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।  
বৃহস্পতিবার দুপুরে জ্বলন্ত রৌদ্রে মধ্যেই বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সভায় আসে, বিশেষ করে গোষ্ঠীর মহিলাদের ভিড় বাড়তেই থাকে। এদিন কান্দিতে অপূর্বের সভায় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন 


"প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পিছনে বিজেপিই দায়ী, কারণ আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গে আট দফা ভোটের কোনো কারণ ছিল না, কেবলমাত্র বিজেপি চক্রান্তের কারনে আট দফা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম।"


প্রসঙ্গত করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয়েছে সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হক ওরফে মন্টু বিশ্বাসের। বুধবার রাতে তাঁর অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি কলকাতার হাসপাতারে স্থানান্তরিত করা হয়। শেষ রক্ষা হল না। সেখানেই মৃত্যু হল রেজাউলের। এই ঘটনায় শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।
তার পরেই অধীরকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করে বলেন শুভেচ্ছা সঙ্গে রাতে যোগাযোগ করে আর দিনে বামেদের সঙ্গ মিছিলে হাটে এদের থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার কথা বলেন। একধাপ এগিয়ে গিয়ে মোদীর উদ্দেশ্যে বলেন 

" ওর কাছে সিবিই আছে, ইডি আছে,  কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে, কিন্তু আমাদের কাছে দিদি আছে। "


শীতলকুচির জোড়পাটকি এলাকায় ১২৬ নম্বর বুথে সিআইএসএফ-এর গুলিতে একসঙ্গে ৪ জনের নিহত হওয়ার ঘটনায়  বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু জেরা করার আবেদন জানান কারণ হিসাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেন। 
ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আবু তাহের খান, প্রার্থী অপূর্ব সরকার ডেভিড, রাজীব হোসেন, বাপী সরকার প্রমুখ্য 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।