করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউলের

15th April 2021 2:08 pm জেলা
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউলের


করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউলের 

চেতনা নিউজ 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রীতিমতো থরহরি কম্প বাংলায়। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হক ওরফে মন্টু বিশ্বাসের। বুধবার রাতে তাঁর অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি কলকাতার হাসপাতারে স্থানান্তরিত করা হয়। শেষ রক্ষা হল না। সেখানেই মৃত্যু হল রেজাউলের। এই ঘটনায় শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।
বেশ কয়েকদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভুগছিলেন রেজাউল হক। সেই অবস্থাতেই প্রচারও চালাচ্ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বুধবার সকালে নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জঙ্গিপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেল থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রাত আটটা নাগাদ তাঁকে কলকাতা রেফার করা হয়। আজই মরদেহ মুর্শিদাবাদে আনা হচ্ছে বলেই পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।
রেজাউল হকের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান। গতকালই তিনি হাসপাতালে এসে রেজাউল হকের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন। এদিকে রেজাউল হকের মৃত্যুতে সামশেরগঞ্জ আসনটি কংগ্রেসের প্রার্থী ছাড়ায় লড়াই হবে। তবে ওই আসনে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে সিপিএমের পক্ষ থেকে মোদাস্বর হোসেন।

সামসেরগঞ্জের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী রেজাউল হক এলাকায় পরিচিত ছিলেন মন্টু বিশ্বাস নামেই। বরাবরই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর আস্থাভাজন বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। যুক্ত ছিলেন একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে। ২০১৬ এর নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন তিনি। পান বড়ো অংকের ভোট। একুশের ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। চালাচ্ছিলেন জোর প্রচারও। প্রার্থীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সামসেরগঞ্জের কংগ্রেস কর্মীরা।

করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রার্থীর মৃত্যু তে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে  নির্বাচন স্থগিত থাকবে এই কেন্দ্রে।

উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছুঁইছুঁই। এই আবহে বঙ্গে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটবঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রচারেই কোভিড বিধি লঙ্ঘনের ছবি সামনে আসছে। এই প্রেক্ষিতে সর্বদল বৈঠক ডাকল নির্বাচন কমিশন। আগামী শুক্রবার সর্বদল বৈঠক ডেকেছে কমিশন।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।