চলে গেলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলেম ‘বক্তা সম্রাট’ গোলাম আহমাদ মোর্তজা
জৈদুল সেখ★ চেতনা নিউজ

রাজ্য তথা উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেম ‘বক্তা সম্রাট ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা বিশিষ্ট ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা ইন্তেকাল করলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৩.০৫ নাগাদ কলকাতার জিডি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
১৯৩৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মেমারিতে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোর্তজা। মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই ইতিহাসবিদের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি ৬পুত্র ও এক কন্যা, দেশ ও দেশের বাইরে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাংলাদেশেও সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ গোলাম মোর্তজা। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার মুসলিম সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গােলাম আহমদ মাের্তজা ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ। তাঁর ইতিহাস গবেষণা বিশেষ করে চেপে রাখা ইতিহাস, একসময়ে গােটা বাংলা জুড়ে ঝড় তুলেছিল। তিনি পবিত্র কুরানের আনুবাদও করেন। তিনি একদিকে ছিলেন যেমন সুবক্তা সুলেখক তেমনি ছিলেন সফল সমাজ কর্মী। তাঁর একান্ত উদ্যোগে মেমারিতে গড়ে ওঠে মদিনাতুল উলুম এবং মামুন ন্যাশনাল স্কুল। তিনি প্রথাগত শিক্ষার উর্ধ্বে উঠে কর্মমুখী শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরােপ করেন। মাদ্রাসাতেও তিনি ভােকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন।
ইতিহাসের ইতিহাস, চেপে রাখা ইতিহাস, এ এক অনন্য ইতিহাস, বজ্র কলম, পুস্তক সম্রাট প্রভৃতি বই লিখে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন। ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ বইটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৮১ সালে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।
স্বাধীনতার আগে মরহুম গোলাম আহমাদ মোর্তজার জন্ম বর্ধমানের মিরেরডাঙা গ্রামে। ১৯৬৮ সাল নাগাদ তিনি মেমারিতে মুসলিমদের আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার মিশেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্দেশ্যে শুরু করেন মেমারি টেকনিক্যাল মাদ্রাসা। পরে তা মেমারি জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম নামে পরিচিত হয়।
মরহুম মোর্তাজা মেমারিতেই মুসলিমদের জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মেমারি ন্যাশনাল স্কুল শুরু করেন। নানা কারণে তা বন্ধ করে দিতে হলেও পরে মামূন ন্যাশনাল স্কুল নামে ইসলামিক মিশন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা রাজ্যের মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে। মুসলিম শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে চলেছে। তিনি ছিলেন কুরআনে হাফিজ।