প্রতীক যখন ব্যাট সত্যিই কী খেলা হবে ! মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী শিক্ষক সুবীর ঘোষ

14th April 2021 4:48 pm দেশ
প্রতীক যখন ব্যাট সত্যিই কী খেলা হবে ! মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী শিক্ষক সুবীর ঘোষ


প্রতীক যখন ব্যাট সত্যিই কী খেলা হবে ! মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী শিক্ষক সুবীর ঘোষ

 অরূপ অধীকারি কান্দি 

নন্দীগ্রামের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের দুরত্ব কয়েকশো মাইল। কিন্তু রাজ্যের মধ্যে এই দুটি কেন্দ্রের দুই প্রার্থীর মধ্যে মিল রয়েছে, দুই প্রার্থীর একজন বিজেপির প্রার্থী নন্দীগ্রামের শুভেন্দু অধিকারী, স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিন অধিকারী পরিবারের সদস্য, অপরজন পেশায় স্কুল শিক্ষক, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী সুবীর ঘোষ, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন কাণ্ডের সূর্য সেনের সহযোদ্ধা অশ্মিনি কুমার দে- এর পরিবারের সদস্য। 

লালবাগ সিংহী হাই স্কুলের শিক্ষক নবাব তালুকে "সুবীর স্যার" বলে পরিচিত। কেউ ডাকেন মাস্টারদা বলেও, ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন ওই কেন্দ্রে বহু প্রাক্তন পড়ুয়া এমনকি তাদের অবিভাবক রাও সুবীর স্যারের ছাত্র, ছাত্র দের একাংশের অনুরোধেই এই কঠিন সময়ে সুবীর বাবু নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কেন নির্দল?  এই প্রশ্নের উত্তরে ছাত্র দরদী,জনপ্রিয় শিক্ষক এবং মানবতাবাদী সুবীর বাবু বলেন

 সবার কাছে যাতে গ্রহণযোগ্যতা থাকে সে জন্যই তিনি নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। 


প্রাক্তন ছাত্র,ও তাদের অবিভাবক দের কাছে বিবেক ভোটের প্রার্থনা করবেন বলে তিনি জানান। সম্প্রতির কারিগর হিসাবে সমাজের প্রতি তার ভূমিকা এবং দায়বদ্ধতা বিষয়ে ইংরেজি থেকে বাংলা সংবাদ মাধ্যমে তাকে নিয়ে খবর ও হয়েছে। রাজ্য জুড়ে যখন আওয়াজ চলছে খেলা হবে,তখন যথার্থই  প্রতীক পেয়েছেন নির্দল হিসেবে সুবীর বাবু। 
তার প্রতীক ব্যাট। আর ব্যাট নিয়েই ঘুরছেন প্রচার চালাচ্ছেন মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে। কখনো কখনো বা মাঠে ভোটার দের সাথে মেতে উঠেছেন ক্রিকেট খেলায় আর বলছেন খেলা হবে। তবে ফ্লেক্স হোডিং দেওয়াল লিখন এসবের মাধ্যমে প্রচার তিনি চালাচ্ছেন না,তিনি সোশ্যাল সাইটে প্রচার চালানোর জন্য জোর দিচ্ছেন। তার প্রতিপক্ষ ওই কেন্দ্রে বিজেপির গৌরিসংকর ঘোষ,এবং কংগ্রেসের নিয়াজুদ্দিন শেখ ছাত্র সম। ওই কেন্দ্রেই তৃণমূলের প্রার্থী রয়েছেন শাওনি সিংহ রায়।
 বিধানসভা ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শিবিরে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হিন্দু মুসলিম সম্প্রতির অন্যতম দৃষ্টান্ত নবাব তালুকের নির্দল প্রার্থী সুবীর স্যার কে নিয়ে রীতিমতো অঙ্ক কষছেন। কোনো দল বা আশঙ্কাও করছেন, এই নির্দল প্রার্থী অনেক ভোটের অঙ্ক উল্টে দিতে পারেন বলে, একরকম বলা চলে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।