কান্দী বিধানসভা নির্বাচনে বামেরেই ভরসা কংগ্রেস প্রার্থী শফিউল আলম খানের
জৈদুল সেখ, কান্দী
কলেজ জীবনেই কংগ্রেস রাজনীতিতে হাতেখড়ি। মুর্শিদাবাদ জেলা ফুটবল টিমের প্রাক্তন অধিনায়ক
শফিউল আলম খান ওরফে বনু খাঁ। আজও বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রিত হন ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধক হিসেবে। কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়, জেমো এন. এন. হাই স্কুল, অন্যান্য স্কুলের ছাত্রদেরকে নিয়ে বৈকালে মোহনবাগান মাঠে ফুটবল খেলা ও শরীরচর্চা শেখাতেন।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ৬৮ কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার পদত্যাগ করায়, বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের গৌতম রায় কে হারিয়ে কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন শফিউল আলম খান ওরফে বনু।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঘিরে যখন স্পর্শকাতর দেশ, তখন উদাহরণ গড়ছেন শফিউল খান। পুজোর মাস কয়েক আগে থেকেই অবশ্য কান্দির বিভিন্ন পাড়ায় ডাক পড়ে সকাল-বিকেল জনসংযোগের ফাঁকেই চলে প্রতিমায় কারিকুরি। সারা দেশে যখন ধর্ম নিয়ে বিভেদ, জাতিসত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন। তখন কান্দির বিধায়ক বনু খান ব্যস্ত থাকেন তার নিজস্ব শিল্পীসত্ত্বার উপর আস্থা রেখে মৃন্ময়ী দুর্গা মায়ের চক্ষুদানে। বাংলার বুকে সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব নিদর্শন। কান্দীর এলাকাবাসী দেখেছে মুসলিম শিল্পীর হাতে প্রাণ পাচ্ছে উমা। সাংবাদিকদের কাছে সোজাসাপ্টা উত্তর -
"শিল্পীর কোন জাত হয়না ,শিল্পীর কাছে শিল্পী সত্ত্বায় পরম ধর্ম"
মূর্তি গড়ার পাশাপাশি ভালো ছবি আঁকেন, খানও করেন, বেশি পরিচিত সমাজসেবী হিসাবে।
বিধায়ক হয়েছিলেন বলে বিন্দুমাত্র ঔদ্ধত্য তাকে স্পর্শ করতে পারেনি চায়ের দোকানে অট্টহাসি ছলে বলতেন বিধায়ক মানাচ্ছে না হে! কেমন একটা ক্ষ্যাপাটে ভাব! মৃদু হেসে বনু খাঁর উত্তর
"খ্যাপাটে ভাব টা থাকুক, কোন ভাব যেন না আসে এটাই আমি চাই।"
শুক্রবার কান্দী বিধানসভার অন্তর্গত জীবন্তি, জিয়াদারা, মহলন্দী, উগ্রো ভাটড়া, পলশী সকাল থেকে বিরাট মিছিল করে প্রচার শুরু হয়, কংগ্রেসের পাশাপাশি বামপন্থী সমর্থকদের প্রচারে ঝড় দেখাগেল। তাছাড়া গত সপ্তাহ ব্যাপী প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে প্রচারে ঝাপিয়ে পড়েছে সংযুক্ত মোর্চার পার্থী ও সমর্থকরা। মহলন্দী-১ অঞ্চলের তেঁতুলিয়া গ্রামের মানুষদের নিয়ে নির্বাচনী আলোচনা সভাও দেখা গেছে ভিড়। কুমারষণ্ড এবং হিজল পাখির চোখে কারণ এখান থেকেই বার বার কংগ্রেসকে মানুষ দু হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। কান্দী শহরে প্রত্যেক বিকেলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতে বিন্দু মাত্র কমতি রাখছেন না বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী সফিউল আলম খান।


জোটের পক্ষ থেকে মানুষের কাছে বার্তা দিচ্ছেন
কান্দিতে সংযুক্ত মোর্চা জয়ী হলে যেগুলো বাস্তবায়িত হবেই--
বালি সিন্ডিকেট রুখতে চাই। কান্দি মাস্টার প্ল্যান চাই।
আন্দুলিয়া থেকে চৌড়িগাছা স্টেশন ১২ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করার জন্য ব্রিজ গুলোকে চালু করতে হবে।
কান্দি তে গার্লস কলেজ পলিটেকনিক কলেজ চাই।
নামে খাতায় নয় সত্যি করে কান্দি মহকুমা হাসপাতাল কে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তরিত করাই সংযুক্ত মোর্চার লক্ষ্য।
কান্দিতে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শফিউল আলম খান, তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার (ডেভিড)। এলাকাতে দুই প্রার্থীরই সংগঠন বেশ মজবুত। কিন্তু কান্দি শহর বাদে গ্রামীণ এলাকার ভোটে দখল রয়েছে শফিউলেরই। অন্যদিকে হিন্দু ভোটে এবার থাবা বসাবে বিজেপি। কান্দির মুসলমান ভোটের সিংহভাগ যাবে শফিউলের ঝুলিতে, একাংশ যাবে তৃণমূলে। এখানে বামেদের ভোট যেহুতু বড়ো ফাক্টর সেহেতু ভাল ফল হওয়ার সম্ভাবনা সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরই।

ভর্তি চলছে