কান্দী বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকার, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

6th March 2021 11:35 am রাজ্য
কান্দী বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকার, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই


​​কান্দী বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকার, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই 

জৈদুল সেখ, কান্দী 

কান্দী বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী কে হবে এই নিয়ে চলছিল দীর্ঘ্য জল্পনাকল্পনা, তার মধ্যেই তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মুখে শোনা যাচ্ছিল কখনো সুকান্ত ত্রিবেদীর নাম কখনো প্রাক্তন আই পি এস হুমায়ুন কবীরের নাম। কিন্তু সব জল্পনাকল্পনা অবসান ঘটালেন তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেই। শুক্রবার কালীঘাট থেকে তৃণমূলের সমস্ত পার্থীর নাম ঘোষণা করেন। কান্দী থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে লড়াই করবেন অপূর্ব সরকার (ডেভিড), ভরতপুর থেকে হুমায়ুন কবীর, বড়ুয়া থেকে জীবনকৃষ্ন সাহা, খড়গ্রাম থেকে আশিষ মার্জিত।

 প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর অপূর্ব সরকার প্রতিক্রিয়ায় জানান যে " মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জী সারা রাজ্যের সঙ্গে কান্দীতে মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন, তিনার উন্নয়ন এবং মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে এবারের বিধানসভায় বিপুল ভোটে জয়ী হব " বর্তমানে বাম কংগ্রেস এবং আই এস এফ যুক্ত হয়েছে তাতে তৃণমূলের ভোটে কতটা প্রভাব পড়বে এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন

" কান্দীতে আইএসএফের কোনো প্রভাব নেই আমাদের লড়াই হবে মুলত বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপির সঙ্গে "

 উল্লেখ্য তিনবারের কংগ্রেস বিধায়ক হিসাবে কান্দীতে পরিচিত মুখ অপূর্ব সরকার দল বদল করে তৃণমূলের যোগদান করে গত লোকসভায় তৃণমূলের পার্থী হয়ে লড়াই করে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়। 

 কান্দীর বাম কংগ্রেস জোটের বিধায়ক সফিউল্ আলম খান বলেন " পার্থী যেই হোক আমরা সে বিষয়ে চিন্তিত নই, আমরা সারা বছর মানুষের হয়ে লড়াই সংগ্রাম করেছি এবং করছি সুতরাং মানুষ গত বিধানসভার মতো এবারও বাম কংগ্রেস জোটকেই ভোট দিবেন। "

 ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দেওয়াল লিখন শুরু করেছে, পিছিয়ে নেই কংগ্রেস। তবে এলাকার মানুষের দাবী তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে গত বিধানসভা উপনির্বাচনে হেরেছিল, সেই গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে না পারলে বাম কংগ্রেস জোট জয়ী হবে। এখন দেখার বিষয় জোট পার্থী নাকি তৃণমূল নাকি বিজেপি শেষ হাঁসি হাঁসবে মানুষের রায়ে ২ মে। 





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।