অসহায় মানুষের পাশে সহায় হয়ে উঠেছে হোপ

23rd June 2020 10:36 pm রাজ্য
অসহায় মানুষের পাশে সহায় হয়ে উঠেছে হোপ


অসহায় মানুষের পাশে সহায় হয়ে উঠেছে হোপ

জৈদুল সেখ : মুর্শিদাবাদ

সারা বিশ্ব যখন করোনা মারণব্যাধির করালগ্রাসে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাস্তাতেই যখন কাটছে রাত কাটছে দিন , দক্ষিনবঙ্গ যখন আম্ফানের দাপটে দিশেহারা, সাথে মাহে রমজানের শুভাগমন, ঠিক তখনই বঙ্গজননীর ঠিকা নিয়ে বাংলার বুকে, দেশের নানা প্রান্তে পাঠরত বঙ্গসন্তানদের হার্দিক প্রয়াসে HOPE  (Helping Organisation For Public Easement) এর আবির্ভাব।
HOPE এর সম্পাদক আবুবাক্কার সিদ্দিক ও সভাপতি সিলন শেখ এর নেতৃত্বে শতাধিক সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গের মোট ১২ টি জেলায় (দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর) এখনো পর্যন্ত ৭,৪০০ মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মোট ১৪৮৭ টি পরিবারের হাতে হোপ পৌঁছে দিয়েছে খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট, ত্রিপল, স্যানিটারি ন্যাপকিন, মাস্ক, ঔষধ, খাতা, কলম এবং রমজানের ইফতার সামগ্রী। ভিন রাজ্যে আটকে পড়া কিছু মানুষকে বাড়ি ফিরিয়েছে হোপ। "রক্তদান মহৎ দান, রক্তদান জীবন দান" একথা মাথায় রেখে হোপের সদস্যরাএই অচল পরিস্থিতিতেও বহু মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দান করেছেন। হোপের কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনলাইনে অনেকেই আর্থিক সাহায্য করে সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাত্র কয়েক মাসেই অনলাইনেই ৩,৫০,০০০ টাকা সংগ্রহ করেছে হোপ পরিবার।

সংগঠনের সম্পাদক সিদ্দিক মহাশয়  ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, স্কলারশিপ বিতরণ, ব্লাড ব্যাংক গঠন করার অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়াও তিনি  সকল সদস্য/সদস্যাকে পাশে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন এবং হোপ পরিবারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরো বেশি পরিমাণে সামাজিক কাজ করে যাওয়ার জন্য সকলের নিকট দোয়া ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।