ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি লুট করেছে মমতা ব্যানার্জী : দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর

13th April 2021 11:05 pm দেশ
ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি লুট করেছে মমতা ব্যানার্জী : দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর


ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি লুট করেছে মমতা ব্যানার্জী : দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর

জৈদুল সেখ, কান্দী 

মুর্শিদাবাদের ৬৮ কান্দী বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার জোট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী শফিউল আলম খান ( বনু খাঁ) সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত কান্দীর মহলন্দী বাজারডাঙ্গা ময়দানে।
দুপুর থেকেই থেকেই মানুষের জনজোয়ার, বিকেলে ৫ টা সময় মাঠে হেলিকপ্টার পৌছায়, সেখানে নেমে প্রথমে সারা মাঠ পরিক্রমা করেন, এর পর বক্তব্য শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরুধী কৃষি বিল, তার পর রাজ্য সরকারের মুসলিম তোষণ প্রসঙ্গে বলেন

ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি লুট করেছে মমতা ব্যানার্জী সরকার, মুসলিমদের চাকরি শতাংশ আজ তলানিতে, পুজোর সময় ক্লাবে টাকা দেওয়া হয় কিন্তু পবিত্র রমজান মাসে কেন টাকা দেওয়া হয়না প্রশ্ন করেন  অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। 


কান্দী মাষ্টার প্লান অর্থাৎ জল প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে আমরা চেয়েছিলাম প্রতিবছর বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে কান্দী মাষ্টার প্লান করে আশির্বাদ নিয়ে আসতে কিন্তু কিছু দালাল তারা এটাকে নষ্ট করতে চেয়েছে, প্রসঙ্গ অধীরের এক সময়ের সঙ্গী বর্তমানের তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকারকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। 

শীতলকুচির জোড়পাটকি এলাকায় ১২৬ নম্বর বুথে সিআইএসএফ-এর গুলিতে একসঙ্গে ৪ জনের নিহত হন। এই ঘটনা ঘিরে দিনভর বিজেপি এবং তৃণমূলের চাপানউতর চলে। তবে চতুর্থ দফার ভোটে হিংসা, হানাহানির বাড়বাড়ন্তের জন্য তৃণমূল এবং বিজেপি— দু’দলকেই দায়ী করেন অধীর। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল এবং বিজেপি দুটোই দানব। দুই দানবের মধ্যে প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে। বাংলা রক্তাক্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে গোটা বাংলায় ১৪ জন খুন হয়ে গেল। তাই বাংলার মানুষ বলছে তৃণমূল এবং বিজেপি এ বার খরচের খাতায় চলে যাবে। ইতিহাসের পাতায় থাকবে সংযুক্ত মোর্চা।’
শীতলখুচিতে যে কারণে গুলি চলেছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। তাঁর কথায়, ‘‘কেন বাংলার ৫ নাগরিকের অকারণে মৃত্যু হল? যারা দোষী তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। সিবিআই তদন্ত হোক।’’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, ‘‘এই সুযোগে তিনি ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। বাংলার মানুষ মারা যাচ্ছে। এই মৃত্যু আমাদের কাছে অনেক দুঃখের, যন্ত্রণার, বেদনার। তাঁদের জীবন হয়তো ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু যারা দোষী, তাদের শাস্তির দাবি করছি। তার পরেই বলেন আগামী দুদিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন শীতলকুচি নিয়ে মামলা করছে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কারণ আমরা সত্য ঘটনা জানতে চাই মানুষকে জানাতে চাই। "

নির্বাচন কমিশন মমতার প্রচার কর্মসূচিতে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সোমবার। সে প্রসঙ্গে অধীর বলেন, ‘‘এক জন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এর থেকে বড় অপমান আর কিছুতে নেই। মুখ্যমন্ত্রীর যে যোগ্যতা নেই, এটা তার প্রমাণ। বাংলায় আজ উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে রাজনীতি করবেন না।’’

 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।